বাংলায় ধর্মগ্রন্থ
এখানে বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য ধর্মগ্রন্থ ও প্রার্থনার মূল পাঠ রাখা হচ্ছে, প্রতিটি অংশের সঙ্গে আমাদের নিজেদের লেখা সহজ বাংলা ব্যাখ্যা দিয়ে। আপাতত হিন্দু ধর্মের দুটি পাঠ প্রকাশিত হয়েছে: রামায়ণ আর হনুমান চালিসা। ইসলাম ও খ্রিস্ট ধর্মের গ্রন্থ পরে যোগ হবে।
- লেখা হয়েছে
এই সংগ্রহে কী পাবেন
প্রতিটি পাতায় একটি ধর্মগ্রন্থ বা প্রার্থনার মূল পাঠ থাকে, ঠিক যেমনটি কোনো নির্দিষ্ট পুরোনো সংস্করণে ছাপা হয়েছে। সেই সংস্করণের সঙ্গে পাঠটি লাইন ধরে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে, আর পাতার শেষে সূত্রের তালিকায় সংস্করণের নাম থাকে, যাতে যে কেউ চাইলে নিজে মিলিয়ে দেখতে পারেন।
মূল পাঠের প্রতিটি শ্লোক, চৌপাই বা কবিতার সঙ্গে আলাদা করে তার অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া আছে। এই ব্যাখ্যা কোনো আধুনিক অনুবাদ বা টীকা থেকে নেওয়া নয়, আমরা নিজেরা লিখেছি। লক্ষ্য একটাই: পাঠের মূল কথা, কঠিন শব্দের মানে আর তার পেছনের কাহিনি যেন সহজে বোঝা যায়।
এর সঙ্গে প্রতিটি পাতায় থাকে গ্রন্থটির ইতিহাস, পাঠের রীতি আর পাঠকদের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে একটি ছোট প্রবন্ধ। সব পাতা বিনামূল্যে পড়া যায়। যে পাঠ ছাপা হয় তা পাবলিক ডোমেনের, অর্থাৎ যার ওপর আর কারও কপিরাইট নেই।
বাংলার তালিকায় কোন কোন ধর্ম
বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা আর আসামের বরাক উপত্যকায় বাংলাই প্রধান ভাষা, আর এর বাইরেও পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়ে আছেন অসংখ্য বাঙালি। এই বিশাল পাঠকসমাজের মধ্যে যে ধর্মগুলির অনুসারী সবচেয়ে বেশি, প্রথম পর্বে আমরা সেগুলিকেই বেছে নিয়েছি: হিন্দু ধর্ম, ইসলাম আর খ্রিস্ট ধর্ম।
বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ মুসলমান, আর পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। খ্রিস্টানরা দুই দেশেই সংখ্যায় কম, তবে বাংলায় বাইবেল পড়ার ইতিহাস দুশো বছরেরও বেশি পুরোনো: উইলিয়াম কেরির উদ্যোগে শ্রীরামপুর থেকে ১৮০১ সালে বাংলা নিউ টেস্টামেন্ট ছাপা হয়েছিল।
তিনটি ধর্মেরই গ্রন্থ বাংলায় পড়া, অনুবাদ করা আর ব্যাখ্যা করার দীর্ঘ চল আছে। তাই বাংলা পাতার তালিকায় আপাতত এই তিনটি ধর্মের নাম রাখা হয়েছে। যে ধর্মের পাতা এখনও তৈরি হয়নি, তার কার্ডে সেটা স্পষ্ট করে লেখা থাকে।
এখন যা পড়া যাবে
প্রথমে প্রকাশিত হয়েছে হিন্দু ধর্মের দুটি পাঠ। রামায়ণের পাতায় আছে বাল্মীকি রামায়ণের প্রথম পাঁচটি শ্লোক, বাংলা লিপিতে, যেভাবে বাংলার পুথি আর বইয়ে সংস্কৃত লেখা হয়ে এসেছে। সঙ্গে আছে মাইকেল মধুসূদন দত্তের তিনটি সনেট, যেগুলি তিনি লিখেছিলেন কৃত্তিবাস, রামায়ণ আর বাল্মীকিকে নিয়ে।
হনুমান চালিসার পাতায় আছে তুলসীদাসের অবধি ভাষায় লেখা পুরো স্তোত্রটি, অক্ষর ধরে বাংলা লিপিতে, যাতে বাংলা পড়তে পারেন এমন যে কেউ এটি পাঠ করতে পারেন। তেতাল্লিশটি অংশের প্রতিটির অর্থ আলাদা করে বলা হয়েছে, আর উচ্চারণের জন্য কিছু দরকারি নির্দেশও দেওয়া আছে।
কয়েকটি ধর্মের গ্রন্থ বাংলায় কেন নেই
ইহুদি, শিখ, তাও, জরথুস্ত্রীয় আর শিন্তো ধর্মের গ্রন্থ এই সংগ্রহে বাংলায় রাখা হচ্ছে না। কারণটা সহজ: এই ধর্মগুলির মানুষ সাধারণত নিজেদের গ্রন্থ অন্য ভাষায় পড়েন। ইহুদিরা তানাখ পড়েন হিব্রুতে, শিখরা গুরু গ্রন্থ সাহিব পড়েন গুরুমুখী লিপিতে, তাও ধর্মের গ্রন্থ পড়া হয় চিনা ভাষায়, পারসিরা প্রার্থনা করেন আবেস্তা ভাষায় আর তাঁদের সমাজের ভাষা মূলত গুজরাটি, আর শিন্তো ধর্মের পাঠ জাপানি ভাষায়।
এর মানে এই নয় যে বাংলাভাষী অঞ্চলে এই ধর্মের মানুষ নেই। কলকাতায় ইহুদি, শিখ, পারসি আর চিনা সম্প্রদায়ের দীর্ঘ ইতিহাস আছে, তাঁদের উপাসনালয়ও আছে। শুধু তাঁদের ধর্মীয় পাঠের ভাষা বাংলা নয় বলে এই গ্রন্থগুলি সেই সব ভাষার পাতায় আর ইংরেজিতে রাখা হচ্ছে।
একই কারণে জৈন গ্রন্থের জন্য আপাতত হিন্দি, গুজরাটি, মারাঠি আর ইংরেজি বেছে নেওয়া হয়েছে।
বাংলা বৌদ্ধ পাঠকদের কথা
বাংলার সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মের সম্পর্ক বহু পুরোনো। বাংলাদেশের পাহাড়পুরে সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষ আজও দেখা যায়, আর বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন বলে ধরা হয় যে চর্যাপদকে, তা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের লেখা গান।
আজও বাংলাভাষী বৌদ্ধ সম্প্রদায় আছে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। তাঁদের অনেকে পালি সূত্র বাংলা লিপিতে আর বাংলা অনুবাদে পড়েন। তবে এই সংগ্রহে এখনও বাংলা বৌদ্ধ গ্রন্থ রাখা হয়নি; বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ আপাতত অন্য কয়েকটি ভাষার পাতার জন্য পরিকল্পিত। কথাটা খোলাখুলি জানিয়ে রাখা দরকার মনে হয়েছে, যাতে কেউ এই অনুপস্থিতিকে অবহেলা বলে না ভাবেন।
ইসলাম ও খ্রিস্ট ধর্মের পাতা
ইসলাম ও খ্রিস্ট ধর্মের গ্রন্থ বাংলায় পরে যোগ হবে। নিয়ম একই থাকবে: যে পাঠ ছাপা হবে তা পাবলিক ডোমেনের কোনো সংস্করণের সঙ্গে লাইন ধরে মিলিয়ে নেওয়া হবে, আর প্রতিটি অংশের ব্যাখ্যা হবে আমাদের নিজেদের লেখা।
বাংলায় কোরআন ও বাইবেলের অনুবাদের ইতিহাস যেমন সমৃদ্ধ, তেমনই নানা সংস্করণে শব্দ আর বানানের তফাতও অনেক। তাই কোন সংস্করণ নেওয়া হবে আর তা কীভাবে যাচাই হবে, সেটা ঠিক করতে সময় লাগছে। কোনো নির্দিষ্ট তারিখ আমরা দিচ্ছি না; পাতা তৈরি হলে এই তালিকাতেই দেখা যাবে।
পাতাগুলি কীভাবে পড়বেন
প্রতিটি পাঠের পাতায় থাকে একটি ছোট ভূমিকা, মূল পাঠ, প্রতিটি অংশের সঙ্গে তার অর্থ, আর গ্রন্থটির ইতিহাস ও প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা। কেউ শুধু পাঠ করতে চাইলে মূল লাইনগুলি পড়ে যেতে পারেন, আর কেউ বুঝে পড়তে চাইলে প্রতিটি ব্যাখ্যায় থামতে পারেন।
ধর্মগ্রন্থ নিয়ে মানুষের বিশ্বাস ও অনুভূতি গভীর। তাই ব্যাখ্যায় আমরা চেষ্টা করেছি বিশ্বাসকে বিশ্বাস হিসেবে আর কাহিনিকে কাহিনি হিসেবে বলতে, এবং যেখানে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ আছে, সেখানে তা সংক্ষেপে জানিয়ে দিতে। কোনো পাঠে রোগ সারা বা ধনলাভের প্রতিশ্রুতি আমরা দিই না; গ্রন্থ নিজে কী বলছে আর ভক্তরা তা কীভাবে বোঝেন, সেটুকুই তুলে ধরি।
বাংলায় যে ধর্মের গ্রন্থ পড়া হয়
- হিন্দু ধর্মবাংলায় হিন্দু ধর্মগ্রন্থ: বাংলা লিপিতে বাল্মীকি রামায়ণের শ্লোক, মধুসূদনের সনেট আর তুলসীদাসের হনুমান চালিসা, প্রতিটি অংশের সহজ বাংলা ব্যাখ্যা সহ।পড়ুন
- খ্রিস্ট ধর্মএখনও প্রকাশিত হয়নি
- ইসলামএখনও প্রকাশিত হয়নি
সাধারণ প্রশ্ন
এই পাতাগুলি পড়তে কি কোনো খরচ আছে?
না। সব পাতা বিনামূল্যে পড়া যায়। যে মূল পাঠ ছাপা হয়েছে তা পাবলিক ডোমেনের, আর ব্যাখ্যা ও প্রবন্ধ আমাদের নিজেদের লেখা।
ব্যাখ্যাগুলি কি কোনো বইয়ের অনুবাদ?
না। প্রতিটি শ্লোক বা চৌপাইয়ের অর্থ আমরা নিজেরা লিখেছি, কোনো আধুনিক অনুবাদ বা টীকা থেকে তুলে আনিনি। মূল পাঠ কোন সংস্করণ থেকে নেওয়া, তা প্রতিটি পাতায় সূত্রের তালিকায় দেওয়া থাকে।
ইহুদি, শিখ বা পারসি ধর্মগ্রন্থ বাংলায় পাওয়া যাবে না কেন?
এই ধর্মগুলির মানুষ সাধারণত নিজেদের গ্রন্থ হিব্রু, গুরুমুখী বা আবেস্তা ও গুজরাটির মতো অন্য ভাষায় পড়েন। তাই সেগুলি সেই ভাষার পাতায় আর ইংরেজিতে রাখা হচ্ছে। বাংলাভাষী অঞ্চলে এই সম্প্রদায়গুলি নেই, এমন কথা আমরা বলছি না।
বাংলা বৌদ্ধ গ্রন্থ এখানে নেই কেন?
চট্টগ্রামসহ নানা জায়গায় বাংলাভাষী বৌদ্ধরা আছেন, আর অনেকে পালি সূত্র বাংলা লিপিতে পড়েন। কিন্তু এই সংগ্রহে এখনও বাংলা বৌদ্ধ গ্রন্থ যোগ করা হয়নি। এটা সম্প্রদায়টির গুরুত্ব নিয়ে কোনো মন্তব্য নয়, শুধু এই সংগ্রহের বর্তমান অবস্থা।
সংস্কৃত বা অবধি পাঠ বাংলা অক্ষরে কেন ছাপা হয়েছে?
বাংলায় বহু শতাব্দী ধরে সংস্কৃত লেখা আর ছাপা হয়ে এসেছে বাংলা লিপিতেই, পুরোনো পুথি থেকে আজকের গীতা বা চণ্ডীর বই পর্যন্ত। সেই রীতি মেনে এখানেও দেবনাগরী থেকে অক্ষর ধরে বাংলা লিপিতে পাঠ দেওয়া হয়েছে, যাতে দেবনাগরী না জানলেও পড়া যায়।
ইসলাম ও খ্রিস্ট ধর্মের পাতা কবে আসবে?
নির্দিষ্ট তারিখ এখনই বলা যাচ্ছে না। কোন সংস্করণ নেওয়া হবে তা ঠিক করে লাইন ধরে মিলিয়ে দেখার কাজ শেষ হলে পাতাগুলি এই তালিকায় যোগ হবে।